সমুদ্র দেখা এবং সমাজ তথা দেশ সেবা!!!

সমুদ্রের সাথে কথোপকথন:
রাত ১২টা ৪৫মিনিট। আকাশে বিশাল একখানা চঁাদ। এই সৌন্দর্য লিখে বর্ণনা করা যাবে না। সমুদ্রের পানিতে পা ভিজিয়ে হাটছি। তখন জোয়ার চলছে। কখনও কখনও একটু বড় ঢেউ এসে আমাদের হাঁটু পযর্ন্ত ভেজানোর চেষ্টা করছে, যেন সেও আমাদের সংগ দিচ্ছে। আমরা চার জন(আমি, অর্নব, তারেক আর সমুদ্রের ঢেউ) ঠিক এইভাবে হাঁটছি অনেকক্ষণ। ক্লান্তি বিহীন এই হাঁটার অভিজ্ঞতা অসাধারন।

সময়ে পরিভ্রমণ:
কিছুদিন থেকে কোথাও ঘুরতে যেতে খুব ইচ্ছা করছিল। কিন্তু কোথায় যাবো ঠিক করতে পারছিলাম না। আমার আসলে খুব বেশি দেশ ঘোরা হয় নাই। যদিও ইচ্ছা অনেক আছে। হঠাৎ করে খবর পাইলাম ভার্সিটি থেকে যাচ্ছে। কাহিনী কিছুই জানি না। তাও যাব এইটা ঠিক করে ফেললাম। খবর নিয়ে যা জানতে পারলাম, এইটা একটা International Organization, নাম Kewkradong. যাইহোক, আমি আর কিছু চিন্তা করলাম না, উত্তাল সমুদ্র দেখার নেশা মাথায় কঠিনভাবে চেপে বসেছে। মোটামুটি ৩ জন টাকা পয়সা জমা দিলাম যাওয়ার আগের দিন।

৯টা ৩০মিনিটে গাড়ি ছাড়ার কথা থাকলেও বাঙ্গালী নিয়মে কিছু বেশি সময় পরেই আমাদের বাস যাত্রা শুরু করল এবং সকাল ১১টার দিকে আমরা কক্সবাজার পৌছালাম। হোটেলে ব্যাগ রেখেই চলে গেলাম সাগর দেখতে।
অবশেষে, আমি সমুদ্রের সামনে। কিছুক্ষণ গোসল করলাম আর কতগুলো ৩৬০ ডিগ্রী চক্করের সাথে সাথে নাক-মুখ দিয়ে (ইচ্ছা না থাকা স্বত্বেও) সমুদ্রের স্বাদ নিলাম 😀 একটা টায়ার নিলাম বেশি মজা করার জন্য, মজা ঠিকই হলো, সাথে সাথে পানি গলধঃকরনের পরিমাণও বেড়ে গেল।
বিকাল হঠাৎ করে মহেশখালী যাব ঠিক হইল। যেই কথা সেই কাজ। ১৪ জন মিলে মহেশখালীর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম। প্রথমে Easy Bike এ চড়ে নদীর ঘাট, তারপর Speed Boat এ করে মহেশখালী। জায়গাটা না দেখলে বোঝা যাবে না, বাংলাদেশে এমন যায়গাও আছে। সারি সারি গাছ, বিশাল মাঠের মত যায়গা। কিন্তু ব্যপার হচ্ছে জোয়ারের সময় এর পুরোটাই চলে যায় পানির নিচে। জোয়ার-ভাটার এই খেলা ঐখানে না থাকতে পারলে খুব সুন্দর করে বোঝা যাবে না
। মহেশখালীতে দেখার মত অনেক কিছুই আছে। বৌদ্ধমন্দির, তাঁতপল্লী সহ আরও অনেক কিছু। আমরা এই দুইটা দেখেছি। সব থেকে ভালো লাগছে যখন তাঁতপল্লীর তাঁতীদের কাছ থেকে শাল(চাদর) কিনলাম। সাধারনত এই সুযোগ পাওয়া যায় না। আজকাল তো জেলেরাও মাছ বিক্রি করতে আসে না, আর কোথায় তাঁতী। ফেরার পথে একটু ঝামেলাই হয়েছিল। কারন, ঐখানের মানুষজন বার বার বলছিল জায়গাটা একটু খারাপ, সন্ধ্যার আগে আগে চলে যেতে। তারপরও সন্ধ্যায় Speed Boat ভ্রমন ব্যপারটা exciting ছিল।

পরের দিন ছিল আসল প্রোগ্রাম, যার জন্য আমরা কক্সবাজারে। Coastal Clean Up. আমরা প্রথমে ব্যপারটাকে যতটা boring ভেবেছিলাম ব্যপারটা ততটাই মজার ছিল। স্কুলের অনেক ছেলেমেয়েদের নিয়ে আসা হয়েছিল। অনেকগুলো গ্রুপে ভাগ করে সবাইকে নিয়ে বীচ এর আবর্জনা পরিষ্কার করলাম। প্রথমে ফাঁকিবাজি করার ইচ্ছা ছিল, পরে সবার কাজ করা দেখে নিজেই উৎসাহ নিয়ে কিছুক্ষণ করলাম। কি কি তুললাম, সেইগুলো আবার একটা ফরমে লিখলাম। যাইহোক, পুরো ব্যপারটাতে ২ ঘন্টার মত সময় নিয়েছে। তারপর আবার সেই সাগরের পানিতে লাফালাফি 😀
দুপুর শেষ হবার আগেই আমরা রওনা হলাম ‘ইনানী বীচ’ এর উদ্দেশ্যে। যাওয়ার জন্য ‘চান্দের গাড়ি’র বদলে একটা Land Cruiser পাইলাম। ইনানী যাওয়ার সময়টা অনেক মজার ছিল। রাস্তার একপাশে পাহাড় আর একপাশে সমুদ্র। ইনানী বীচে পানিতে পা ভিজানোর সময় এক পিচ্ছি আমাকে বলে ‘আঙ্কেল, ওখানে যেও না, চোরাবালি আছে’ 😀 ব্যপার টা আমার কাছে অন্যরকম লাগছে, কারন সাধারনত আমি এই ডাকটা শুনে অভ্যস্ত নই।

The Land Cruiser
The Land Cruiser

ইনানী থেকে চলে আসলাম হিমছড়ি। ইনানী থেকে গাড়িতে ওঠার প্রায় সাথে সাথেই ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়। কিছুদূর আসার পর, হঠাৎ একটা যায়গায় এসে দেখি কোনো বৃষ্টি নাই। প্রকৃতি আবারও তাকে দেখে অবাক হবার সুযোগ করে দিল। হিমছড়ি গিয়ে অনেক দূর সিঁড়ি বেয়ে উঠলাম। কিন্তু বেশিক্ষণ থাকতে পারলাম না, কারন সময় শেষ হয়ে যাচ্ছিল। ওখান থেকে নেমে গেলাম ঝর্ণা দেখতে। ছোটবেলা থেকে শুনে আসতেছি এই অদ্ভুত ঝর্ণার কথা। দেখে চোখ জুরায়ে গেলো। আমি নিজের চোখে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, কিভাবে একটা পাহাড় থেকে এই রকম গতিতে অনবরত পানি পড়ছে।

পরিশেষ:
আসার সময় একটা সনদপত্রও পেলাম। কিন্তু, কিন্তু…আসার পথে রাস্তা ছিল পুরা ফাঁকা। মাত্র ১৮ ঘন্টা সময় লাগছে 😛 😛

Advertisements

4 thoughts on “সমুদ্র দেখা এবং সমাজ তথা দেশ সেবা!!!

  1. ধন্যবাদ স্যার। এত কম সময়ে এত বেশি কিছু করতে পারব কখনও ভাবতে পারি নাই।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s