হাসন রাজার দেশে

লালন সাঁইয়ের আখড়া দেখার জন্য অনেকদিন থেকেই ঠিক করছিলাম, কখনও আমার পরীক্ষা কখনও তাসবীর ভাইয়ের অফিস। তো এইবার ঠিক করলাম, যে দুইজনেরই একটু ফ্রি সময় আছে, আখড়া দেখার এইটাই ভালো সুযোগ। বৃহষ্পতিবার দুপুরে প্রায় ১ ঘন্টা বসে ঠিক করলাম আমাদের মধ্যে কে টিকেট কাটতে যাবে, শেষপর্যন্ত দুইজনই গেলাম এবং ট্রেনের টিকেট না পেয়ে চলে আসলাম। তারপর দুই তিনটা বাস কাউন্টারে ফোন করেও টিকেট না পাওয়ার পর, একটু বিরক্ত অবস্থায় চিন্তা করতে থাকি, কি করা যায়। দুইজনের বাসায়ই বলা হয়ে গেছে যে আমরা কুষ্টিয়া যাচ্ছি এবং অনেক কষ্ট করে রাজি করানো হইছে। যাইহোক হাল না ছেড়ে চিন্তা করতে লাগলাম। সিলেট, বান্দরবান আরো কত কি মাথায় আসতে থাকল। অবশেষে সিলেটের প্রতি মন ঠিক হল। বাসায় বলার সাথে সাথে দুইজনের বাসায়ই একটু বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হল, কিন্তু ব্যপারটা মোটামুটি আগে থেকেই ধারনা করতে পারছিলাম বলে কি করবো ওইটাও মাথায় ছিল।

রাত সাড়ে ১০টা, ইউনিক বাস কাউন্টার সায়দাবাদ

টিকেট কাটতে যাবো, তখনই পাশ থেকে এক লোক বলে, “ভাই, একটা বান্দরবানের টিকেট দেন” । লাইট বাল্ব!  আমি সাথে সাথেই তাসবীর ভাইকে বললাম, “ভাই চলেন, বান্দরবান যাই”

যাইহোক, রাত সাড়ে ১১ টার দিকে সিলেটের উদ্দেশ্যে আমাদের বাস ছাড়ল।

ভোর সাড়ে ৫টা, মাজার রোড, সিলেট

মাজার দেখার জন্য ঢুকলাম, কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করলাম। তারপর কি করব ভাবতে ভাবতে হাঁটতে লাগলাম। সিলেটের একটা ব্যপার বার বারই লক্ষ্য করেছি, মানুষজনের ব্যবহার অনেক ভালো, কেউ বিরক্ত নিয়ে কোন কথার জবাব দেয় না। রাস্তার মোড়ে একটা চায়ের দোকানে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, শ্রীমঙ্গল কিভাবে যাওয়া যায়। লোকটা আমাদেরকে ট্রেন এবং বাস দুইটাই বলল, কিন্তি যেহেতু আমরা ট্রেনে যাওয়ার ব্যপারে বেশি আগ্রহী ছিলাম, উনি আমাদের একটা রিক্সায় যাওয়ার পরামর্শ দিলেন। মাজার রোড থেকে ট্রেন ষ্টেশন ৩০ টাকা রিক্সা ভাড়া। পথে লন্ডনি ব্রিজ পড়ে, ওখানে রিক্সা ঠেলে উঠিয়ে দেওয়ার জন্য  মানুষ আছে, যারা প্রতিবার ব্রিজের মাঝখান পর্যন্ত রিক্সা উঠিয়ে দেওয়ার জন্য ৫ টাকা করে পায়।

যাইহোক, সকাল ৭টার দিকে শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশ্যে আন্তঃনগর পারাবত ট্রেন যায়। আসল ভাড়া কত সঠিক জানি না, আমাদেরকে এক সরকারি কর্মকর্তা তার স্পেশাল ক্ষমতায় ট্রেনের কেবিনে উঠিয়ে দেয়, মাথাপিছু ৬৫ টাকার বিনিময়ে। ছোট ছোট পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে চলে গেছে ট্রেন লাইন।
১০টার মধ্যেই আমরা শ্রীমঙ্গল পৌছাই। শ্রীমঙ্গল হিন্দু প্রধান ছোট্ট একটা শহর, যেখানে ছোট হোটেল থেকে শুরু করে কটেজ, সুইট পাওয়া যায় এমন একটা জায়গা। হবিগঞ্জ রোডে বেশকিছু হোটেল আছে, যেটার মধ্যে Tea State Hotel এবং তার পাশেই আরেকটা ভালো দেখতে হোটেল চোখে পড়ে। কিছুটা যাচাই করে কলেজ রোডের Hotel Plaza আমাদের জন্য ভালো মনে হয়। হট ওয়াটার সহ রুম ভাড়া ৮০০ টাকা এবং হট ওয়াটার ছাড়া ৬০০ টাকা।

হোটেলে ৩০ মিনিটের মত থেকে আমরা আবার বের হয়ে পড়ি। উদ্দেশ্য মাধবকুন্ড। লোকাল ট্রেনে করে শ্রীমঙ্গল থেকে কূলাউড়া আড়াই ঘন্টার পথ। তারপর সিএনজি করে ৪২ কিলোমিটারের মত পথ মাধবকুন্ড। ভাড়া আপ-ডাউন ৬০০-৭০০ টাকা। যাওয়ার পথে অতিথি পাখিদের অভয়ারন্য হাকালুকি হাওড়।

মাধবকুন্ড ঝর্ণা
মাধবকুন্ড ঝর্ণা

মাধবকুন্ডের ওইখানে দুপুরের খাওয়া দাওয়া করার পর দেখতে যাই মাধবকুন্ডের বিখ্যাত ঝর্ণা।

পাথরের বিশাল ঝর্ণা বেয়ে অনবরত ঝকঝকে শীতল পানি, না দেখলে আসলে সৌন্দর্যটা অতোটা উপলব্ধি করা যাবে না।

আমি আর তাসবির ভাই
আমি আর তাসবির ভাই

কূলাউড়াও কিন্তু শ্রীমঙ্গলের মতই আরেকটা ছোট্ট উপশহর। ফিরে এসে সিএনজি থেকে নেমে আবার সাড়ে ৬টার লোকাল ট্রেনে করে শ্রীমঙ্গল।  আমরা শ্রীমঙ্গলে থাকার জন্য কিছুটা উল্টা গেছিলাম। শ্রীমঙ্গল ষ্টেশনে নেমেই মাথায় আসে নীলকন্ঠ চায়ের কথা। সাত রংয়ের এই চায়ের কথা অনেকবার শুনেছি। চায়ের উদ্ভাবক মানুষটিও তখন দোকানে উপস্থিত ছিল। সাত রংয়ের এক কাপ চা ৭০ টাকা। ৬ রং, ৫ রং, ৪ রং যথাক্রমে ৬০ টাকা , ৫০ টাকা, ৪০ টাকা। সাত রংয়ের চা, আসলেই সাতটি স্বাদ বহন করে। আমি চায়ের টেস্ট বলে মজা নষ্ট করতে চাই না। দুই কাপ বিখ্যাত চায়ের সাথে আমি আরো একটা স্পেশাল চা টেস্ট করলাম।

সাত রংয়ের চা
সাত রংয়ের চা

হোটেলে ফিরে আসার জন্য রাস্তায় দাড়ায়ে আছি, এক রিক্সা আমাদের দেখে ভূত দেখার মত করে রিক্সা নিয়ে ছুটে পালালো। হা হা হা, সারাজীবন মনে রাখার মত  একটা দৃশ্য। এমনকি আরেকটু হলে সে একটা প্রাইভেট কারের নিচেই পড়ত।

রাতে হবিগঞ্জ রোডের নূর নামের একটা হোটেলে খেয়ে নিই এবং অনেক রাত অবধি ভূতের গল্প করতে থাকি। হেহ, পরে যদিও বাথরুমে যেতে একটু খটকা খটকা লাগতেছিল।

পরদিন সকালে সাড়ে ৬ টার ট্রেন ধরে আমাদের সিলেট যাওয়ার কথা থাকলেও জগতের কিছু অবশ্যম্ভাবী ঘটনার মত আমরাও ট্রেন মিস করি। তারপর, সাড়ে ১০ টার দিকে বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দেই। পৌনে ১টার দিকে সিলেট সোবহানঘাটি পৌছে বাস স্ট্যান্ডের অপর পাশের একটা হোটেলে সকাল আর দুপুরের খাওয়া খেয়ে সাথে সাথেই আবার বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে জাফলংয়ের বাসে উঠি।

৫৮ কিলোমিটার অতিক্রম করার পর আবিষ্কার করলাম, যে আমাদের দুইজনের কেউই জানি না, যে আমাদের কোথায় নামতে হবে অথবা আমরা জাফলং কেন আসছি। বেপারটা ঠিক এরকম, সবাই আসে, তাই আমরাও আসছি। 😛

তাসবির ভাই
তাসবির ভাই

আমার ঘুম আর তাসবীর ভাইয়ের শূণ্য দৃষ্টি দেখে এক মৌলভী সাহেব বললেন, ” আপনারা তো এইখানের না, পিকনিক স্পটে যাবেন না?” আমরা চিনি না বললে, উনি আমাদের ওইখানেই নামার জন্য বললেন। আমরা ‘মামার দোকান’ নামক একটা জায়গায় নামলাম। তারপর একটু খোঁজ খবর নিয়ে পিকনিক স্পটের দিকে হাঁটা শুরু করলাম। পিকনিক স্পট থেকে নৌকা নিয়ে ওপার গেলাম। ওইখানে একটা ভ্যানওয়ালার সাথে কিছু টাকার চুক্তিতে খাসিয়া পল্লী, চা বাগান, খাসিয়া রাজার বাড়ি, এবং সর্বশেষ জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি একটা জায়গাতে গেলাম। নদীর উপরে মেশিন, বালু আর পাথর একাকার অবস্থা। আমরা এইসবের উপর দিয়েই হেঁটে চলে গেলাম নৌকার জন্য। নৌকা দিয়ে পার হওয়ার সময় উপলব্ধি করলাম বাংলাদেশের পাশেই অনেক সুন্দর একটা পাহাড়, পাহাড় কাটা রাস্তা আর পাহাড়ি শহর। চোখ দিয়ে দেখা গেলেও এর সবই ভারতের মধ্যে পড়ে। মাথা খারাপ করা স্বচ্ছ নদীর পানি।

আমি
আমি

নো-ম্যানস ল্যান্ডে কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করে সূর্য ডুবি ডুবি অবস্থায় ‘মামার দোকান’ নামক স্থান থেকে বাসে উঠলাম সিলেটের উদ্দেশ্যে।

৭টার দিকে সোবাহান ঘাটি এসে পৌছালাম। ওখান থেকে কিছু দূর হেঁটেই শিশু ক্লিনিকের কাছে ঢাকা আসার ৩/৪ তা বাস কাউন্টার। আমরা ইউনিকের কাউন্টার থেকে সাড়ে ১২টার টিকেত নিয়ে লক্ষ্য করলাম, তখন সাড়ে আটটা বাজে, হাতে অনেক সময়। ব্যাটারী গাড়িতে করে বন্দর বাজার এবং ওইখান থেকে ১২টাকা দিয়ে সিএনজি করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব্যবিদ্যালয়। অল্প আলোয় পুরো ক্যাম্পাস প্রচন্ড নির্জন ও নিরব। আমরা ভিতরে অনেক দূর পর্যন্ত হেঁটে যাই। পরে এক গার্ড বলে শহীদ মিনারের ওইখানে যাওয়া যাবে না, কি নাকি সমস্যা আছে। এখন সমস্যাটা নরমাল না প্যারা নরমাল, এইটা ক্লিয়ার করে বলে নাই।

তারপর আবার একইভাবে আবার সোবহানঘাটি এবং অবশেষে ভোর ৫ টায়  শেষ হল অনেক বেশি uncertain একটা ট্যুর।

ডিজিটাল অক্ষর দিয়ে জ্ঞান শেয়ার করা যায়, কিন্তু অভিজ্ঞতা শেয়ার করা একটু কঠিন। তবে পুরোটাই ছিল একটা অন্য রকম অভিজ্ঞতা। এমন একটা ট্যুর যেখানে একটাই আফসোস, যে এইভাবে  সারা জীবন কাটানো সম্ভব না। তবে বছরে কিছু দিন এইভাবে পার করবো, এইটা মোটামুটি আশা করা যায়।

eASiA 2011 and Amadeyr Cloud

eASiA 2011, the annual International Information and Communication Technologies (ICT) for development event with the objective of reinforcing technology and knowledge-centric growth and needs of Asia vis-à-vis Bangladesh, through capitalization of market economy and boosting human development. – e-asia.org

The 5th annual eASiA 2011 took place in Dhaka, Bangladesh. It was a 3 days long event where 200 speaker from different countries attended. There were 100 exhibitors, 30 seminars and 5 workshops held in the event.

So, I had a chance to observe this even closely. Amadeyr Cloud, the company I am currently working for, had their won stall as a Bangladeshi ICT company who are trying to reach every person on the last mile and deliver information with modern technologies. Me with Adnan sir, Tasbeer vai, Raihan vai, Abir vai were in the stall and described our projects to the visitors. It was a nice experience talking and explaining things to a lot of people.

I also attended two seminars On the 3rd day of the event. One was titled ‘Beyond Connectivity: Sustainable business model for application and content’ where speakers from different countries described the sustainability of their own business model for the under privileged citizen. Mr. Imran Ali, CEO of Amadeyr Cloud also presented one of its pilot projects which was about delivering information to the people who live under poverty line and showed that the barrier of illiteracy can be overcome in case of delivering information. Another session I attended today was ‘Build your own Cloud’ and as I am working on Cloud Computing lately, so this was the session I was really waiting for. Dr. Mumit Khan, Brac University was the moderator of the session. He delivered the idea of including distributed computing and the fundamental cloud computing to the undergrad students. The key technical speaker of the session was Mohammad Zaman, Director – Solution Architecture of VirtuStream, USA. He described Cloud Computing and various cloud ecosystems to the audience. There were two other speakers Shinya Kukita, Ed Franklin, they also talked about the business opportunities involved in cloud computing.

 

Upshot

From the beginning to the end we were trying to tell the visitors that, we are not selling those Android Tablets, we were there to demonstrate our projects. With lot of appreciations also there were people who got really angry as we weren’t telling them the price of the tablets 😀

The overall event went really great. All the exhibitors were given a crests from the authority. Brac University students were taking a survey on behalf BRAC using our android tablets and survey software. Many kids used our Akkhor application and wrote letters with happy faces.

একটুখানি বৈশাখ

পহেলা বৈশাখ, ১৪১৮

মুখবন্ধ:
কিছু জ্ঞানী মানুষ খুব লাফালাফি করতেছিল, ভোর ৬ টার আগে নাকি পহেলা বৈশাখ হয় না। আমি এইটার প্রতিবাদ করছি না। গুরুজনেরা যা বলেছেন, হয়ত ঠিকই বলেছেন। তাহলে পরদিন ভোর ৫.৫৯ পর্যন্ত পহেলা বৈশাখ, খিক খিক। সুভম! সুভম!

বিস্তারিত:
সবার মত আমিও চেষ্টা করছিলাম ঘুরেফিরে বেড়ানোর। রমনা, ডি.ইউ আগেই তালিকা থেকে বাদ দিয়েছিলাম, কারন আমার পরিচিত মানুষগুলো সব ধানমন্ডির দিকে। যাইহোক, সকাল মানে দুপুর ১১টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে বন্ধুদের সাথে দেখা করার উদ্দেশে্য বের হই। প্রথমে জাবিয়ার সাথে দেখা হয়, তারপর অর্নব। জাবিয়ার বাসায় দুপুরের খাওয়াটা মোটামুটি জোর করেই খাই। অতঃপর, নৌকাবাইচ দেখার জন্য আকুল আগ্রহ নিয়ে জাবিয়ার বুদ্ধিতে নির্ধারিত স্থান থেকে অনেক দূরে দাড়িয়ে থাকি। এবং যথারিতি নৌকাবাইচ আমাদের চোখের আড়ালেই সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয়। 😛
তারপর, দেখা হয় জোহান আর আহাদের সাথে। শুরু হয় boring সময় 😛 হুদাই দুনিয়াদারি হাটতেছি। একসময় আহাদ চলে গেলো। কিছুক্ষণ পর তারিন আসলো। খুব ভাব ব্যস্ত ভাব দেখায়ে চলেও গেলো। কি আর করা 😦 জোহানকে বললাম, তুই বাসায় যা, আমিও বাসায় যাই। তারপর, সিদ্ধান্ত নিলাম মোহাম্মাদপুর থেকে বাসে উঠব। রিক্সা ভাড়া অনেক বেশি চাওয়াতে হাটতে থাকলাম সামনের দিকে। ৩২ নম্বরের দিকে এসে বার্গার খাইতে ইচ্ছা হইল। বার্গার খেতে খেতে হঠাৎ ইচ্ছা হল, কোথাও গেলে কেমন হয়। জোহানকে বলা মাত্রই সে রাজি। (জোহান আর নায়েফ আগেও একবার এইরকম আকষ্মিক একটা যাত্রা করিয়াছে) তাই আমি বললাম নায়েফকে ফোন করতে। নায়েফ একটু মোচড়ামুচড়ি করলেও খুব সহজেই রাজি হয়ে গেল। তারপর নায়েফের বাসা।

সময়: আনুমানিক রাত ৯.৪৫
স্থান: কলেজ গেট

প্রথমে পাশের ছোটখাট বাস কাউন্টার গুলো থেকে জানতে চেষ্টা করলাম ৩/৪ ঘন্টায় কোথায় যাওয়া যায়। কোন কূলকিনারা না পেয়ে ভাবলাম ময়মনসিংহ যাব। মহাখালি থেকে প্রতি ৫ মিনিট পর পর বাস পাওয়া যায় এমন একটা অমূলক ধারনা নিয়ে একটা CNG তে করে মহাখালি বাস টার্মিনালে গেলাম এবং প্রায় জনশূন্য বাস টার্মিনাল আবিষ্কার করলাম। আবার কলেজগেট। যাত্রা স্থান ঠিক করতে পারতেছি না। এমন সময় আবার চোখে পড়ল হানিফের বাস সিলেট যায় (Light Bulb!) টিকিট বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করলাম, কতক্ষণে সিলেট যাওয়া যায়। বলে সাড়ে ৪ ঘন্টা। এর আগে পালাক্রমে আমি, জোহান আর নায়েফ সেই বিরক্তিকর প্রশ্নটা কয়েকবার করে ফেলেছি ‘ভাই, ৩/৪ ঘন্টায় কোথায় যাওয়া যায়?’ ফাইনালি, আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, সিট আছে? বলে শেষের তিনটা। আমি বললাম, তিনটা টিকেট দেন। লোকটা অষ্টম আশ্চর্য দেখার মত করে বলে, যাবেন? আমি বললাম, হ্যা। টিকেন দেন তিনটা। তারপর আর কি! বাসে উঠে সিলেট। হুররে!!!!

স্থান: মাজার রোড
সময়: আনুমানিক ভোর ৫ টা

কিছুক্ষণ ধরে নিরাপদ মুত্র বিষর্জনের জন্য জোহান আর নায়েফ হসপিটালের খোঁজাখুঁজি করল। এর মধ্যে আবার মাজারেও একবার হালকা ঢুঁ মেরে আসলাম।

Me
Me and Johan

আমার চা বাগান দেখার খুব ইচ্ছা হইল। ওরা বিজ্ঞের মত বলল, চা বাগান অনেক দূরে। আবার হাসাহাসিও করল। সিলেট গেছি এইটার প্রমাণ স্বরূপ ফটুক তোলা হল। কিছুদুর যাওয়ার পর জানতে পারলাম, চা বাগান আসলে অত বেশি দূরেও না। আমরা স্মার্ট, তাই অত্যন্ত বেশি ভাড়া দিয়ে একটা রিক্সা ঠিক করে চা বাগান দেখতে গেলাম। কিন্তু সত্যি কথা বলতে এইটা নিয়ে আফসোস নাই, কারন ওই সময়টুকু অনেক ভালো ছিল। অনেক ভঙ্গিমায় ফটুক তোলা হল।

Johan
Nayef

পকেটের অবস্থা খুব বেশি ভালো না। ব্যাংকের কোন বুথই কাজ করে না। পেট পূঁজা তখন সপ্নের মত। যাইহোক, DBBL (যাহা কখনই কাজ করে না, তাহা কেলেসমতি দেখাইলো) থেকে ৩০০ টাকা বের করলাম। একটা রেস্টুরেন্টের নাম খুব ভালো লেগেছিলো, ‘ইষ্টিকুটুম’, ওখানে সকালের খাওয়া শেষ করলাম।

Johan and Nayef
Me and Nayef

আবার মাজারে গেলাম। সব ঘুরে দেখার জন্য। আমাদের সবার অগচরে জোহান রহমান, পিতা: মুজিবুর রহমান, মাজারের অর্থ কোষাগারে কিছু অর্থ সংযোগ করার ক্ষিণ চেষ্টা করল, যাহা আমার চোখে ধরা পড়ল। 😛 😛
পুকুরের মাছ, কয়েন ফেলার কুয়া, কবুতর আরও অনেক কিছুই দেখলাম।

সময়: সকাল ৮.৩০
স্থান: হানিফ কাউন্টার, মাজার রোড

ফিরতি বাসের টিকেট নিয়ে বসে আছি এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা।

পরিশেষ:
এইছিল আমাদের AWESOME সিলেট ভ্রমণ with full of awesomeness 😀 😀

Review: যদি আমরা ধানমন্ডি থেকে ৫০ টাকা দিয়ে রিক্সায় উঠতাম!!

N.B টাইটেলটা জাফর ইকবাল স্যারের দুইটা বইয়ের মত। আমি চুরি করেছি বলতে পারেন। মাইন্ড করব না।

সমুদ্র দেখা এবং সমাজ তথা দেশ সেবা!!!

সমুদ্রের সাথে কথোপকথন:
রাত ১২টা ৪৫মিনিট। আকাশে বিশাল একখানা চঁাদ। এই সৌন্দর্য লিখে বর্ণনা করা যাবে না। সমুদ্রের পানিতে পা ভিজিয়ে হাটছি। তখন জোয়ার চলছে। কখনও কখনও একটু বড় ঢেউ এসে আমাদের হাঁটু পযর্ন্ত ভেজানোর চেষ্টা করছে, যেন সেও আমাদের সংগ দিচ্ছে। আমরা চার জন(আমি, অর্নব, তারেক আর সমুদ্রের ঢেউ) ঠিক এইভাবে হাঁটছি অনেকক্ষণ। ক্লান্তি বিহীন এই হাঁটার অভিজ্ঞতা অসাধারন।

সময়ে পরিভ্রমণ:
কিছুদিন থেকে কোথাও ঘুরতে যেতে খুব ইচ্ছা করছিল। কিন্তু কোথায় যাবো ঠিক করতে পারছিলাম না। আমার আসলে খুব বেশি দেশ ঘোরা হয় নাই। যদিও ইচ্ছা অনেক আছে। হঠাৎ করে খবর পাইলাম ভার্সিটি থেকে যাচ্ছে। কাহিনী কিছুই জানি না। তাও যাব এইটা ঠিক করে ফেললাম। খবর নিয়ে যা জানতে পারলাম, এইটা একটা International Organization, নাম Kewkradong. যাইহোক, আমি আর কিছু চিন্তা করলাম না, উত্তাল সমুদ্র দেখার নেশা মাথায় কঠিনভাবে চেপে বসেছে। মোটামুটি ৩ জন টাকা পয়সা জমা দিলাম যাওয়ার আগের দিন।

৯টা ৩০মিনিটে গাড়ি ছাড়ার কথা থাকলেও বাঙ্গালী নিয়মে কিছু বেশি সময় পরেই আমাদের বাস যাত্রা শুরু করল এবং সকাল ১১টার দিকে আমরা কক্সবাজার পৌছালাম। হোটেলে ব্যাগ রেখেই চলে গেলাম সাগর দেখতে।
অবশেষে, আমি সমুদ্রের সামনে। কিছুক্ষণ গোসল করলাম আর কতগুলো ৩৬০ ডিগ্রী চক্করের সাথে সাথে নাক-মুখ দিয়ে (ইচ্ছা না থাকা স্বত্বেও) সমুদ্রের স্বাদ নিলাম 😀 একটা টায়ার নিলাম বেশি মজা করার জন্য, মজা ঠিকই হলো, সাথে সাথে পানি গলধঃকরনের পরিমাণও বেড়ে গেল।
বিকাল হঠাৎ করে মহেশখালী যাব ঠিক হইল। যেই কথা সেই কাজ। ১৪ জন মিলে মহেশখালীর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম। প্রথমে Easy Bike এ চড়ে নদীর ঘাট, তারপর Speed Boat এ করে মহেশখালী। জায়গাটা না দেখলে বোঝা যাবে না, বাংলাদেশে এমন যায়গাও আছে। সারি সারি গাছ, বিশাল মাঠের মত যায়গা। কিন্তু ব্যপার হচ্ছে জোয়ারের সময় এর পুরোটাই চলে যায় পানির নিচে। জোয়ার-ভাটার এই খেলা ঐখানে না থাকতে পারলে খুব সুন্দর করে বোঝা যাবে না
। মহেশখালীতে দেখার মত অনেক কিছুই আছে। বৌদ্ধমন্দির, তাঁতপল্লী সহ আরও অনেক কিছু। আমরা এই দুইটা দেখেছি। সব থেকে ভালো লাগছে যখন তাঁতপল্লীর তাঁতীদের কাছ থেকে শাল(চাদর) কিনলাম। সাধারনত এই সুযোগ পাওয়া যায় না। আজকাল তো জেলেরাও মাছ বিক্রি করতে আসে না, আর কোথায় তাঁতী। ফেরার পথে একটু ঝামেলাই হয়েছিল। কারন, ঐখানের মানুষজন বার বার বলছিল জায়গাটা একটু খারাপ, সন্ধ্যার আগে আগে চলে যেতে। তারপরও সন্ধ্যায় Speed Boat ভ্রমন ব্যপারটা exciting ছিল।

পরের দিন ছিল আসল প্রোগ্রাম, যার জন্য আমরা কক্সবাজারে। Coastal Clean Up. আমরা প্রথমে ব্যপারটাকে যতটা boring ভেবেছিলাম ব্যপারটা ততটাই মজার ছিল। স্কুলের অনেক ছেলেমেয়েদের নিয়ে আসা হয়েছিল। অনেকগুলো গ্রুপে ভাগ করে সবাইকে নিয়ে বীচ এর আবর্জনা পরিষ্কার করলাম। প্রথমে ফাঁকিবাজি করার ইচ্ছা ছিল, পরে সবার কাজ করা দেখে নিজেই উৎসাহ নিয়ে কিছুক্ষণ করলাম। কি কি তুললাম, সেইগুলো আবার একটা ফরমে লিখলাম। যাইহোক, পুরো ব্যপারটাতে ২ ঘন্টার মত সময় নিয়েছে। তারপর আবার সেই সাগরের পানিতে লাফালাফি 😀
দুপুর শেষ হবার আগেই আমরা রওনা হলাম ‘ইনানী বীচ’ এর উদ্দেশ্যে। যাওয়ার জন্য ‘চান্দের গাড়ি’র বদলে একটা Land Cruiser পাইলাম। ইনানী যাওয়ার সময়টা অনেক মজার ছিল। রাস্তার একপাশে পাহাড় আর একপাশে সমুদ্র। ইনানী বীচে পানিতে পা ভিজানোর সময় এক পিচ্ছি আমাকে বলে ‘আঙ্কেল, ওখানে যেও না, চোরাবালি আছে’ 😀 ব্যপার টা আমার কাছে অন্যরকম লাগছে, কারন সাধারনত আমি এই ডাকটা শুনে অভ্যস্ত নই।

The Land Cruiser
The Land Cruiser

ইনানী থেকে চলে আসলাম হিমছড়ি। ইনানী থেকে গাড়িতে ওঠার প্রায় সাথে সাথেই ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়। কিছুদূর আসার পর, হঠাৎ একটা যায়গায় এসে দেখি কোনো বৃষ্টি নাই। প্রকৃতি আবারও তাকে দেখে অবাক হবার সুযোগ করে দিল। হিমছড়ি গিয়ে অনেক দূর সিঁড়ি বেয়ে উঠলাম। কিন্তু বেশিক্ষণ থাকতে পারলাম না, কারন সময় শেষ হয়ে যাচ্ছিল। ওখান থেকে নেমে গেলাম ঝর্ণা দেখতে। ছোটবেলা থেকে শুনে আসতেছি এই অদ্ভুত ঝর্ণার কথা। দেখে চোখ জুরায়ে গেলো। আমি নিজের চোখে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, কিভাবে একটা পাহাড় থেকে এই রকম গতিতে অনবরত পানি পড়ছে।

পরিশেষ:
আসার সময় একটা সনদপত্রও পেলাম। কিন্তু, কিন্তু…আসার পথে রাস্তা ছিল পুরা ফাঁকা। মাত্র ১৮ ঘন্টা সময় লাগছে 😛 😛